লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
হঠাৎ মনে হতে পারে, নিজের ওপর আর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিজের চিন্তা থামাতে পারছেন না, অনুভূতিগুলো খুব তীব্র হয়ে উঠছে, অথবা মনে হচ্ছে এমন কিছু করে ফেলতে পারেন যেটা আপনি আসলে করতে চান না।
কখনো আবার কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মনে হয়—“আমি যদি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি?” এই চিন্তাটা নিজেই খুব ভয়ংকর হতে পারে। তখন ভয় শুধু বর্তমান অনুভূতিকে নিয়ে থাকে না। বরং ভয় হয়—“এরপর কী হবে?”
“নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলব” কথাটার অর্থ সবার কাছে একরকম নয়। কারো মনে হতে পারে, মাথার মধ্যে এত চিন্তা চলছে যে আর কোনো চিন্তা সামলাতে পারবেন না। কারো মনে হতে পারে, আবেগ এত বেশি হয়ে যাচ্ছে যে নিজেকে শান্ত রাখা সম্ভব হবে না। আবার কারো ভয় হতে পারে, হঠাৎ এমন কোনো কাজ করে ফেলবেন যেটা আপনি করতে চান না।
কেউ হয়তো মনে করতে পারেন, “আমি যদি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ করি?” আবার কারো ক্ষেত্রে শুধু একটা অস্পষ্ট ভয় থাকে—“কিছু একটা হয়ে যাবে, আর তখন আমি নিজেকে সামলাতে পারব না।”
এই ভয়টির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অনেক সময় বাস্তবে কোনো নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটেনি। বরং নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনার চিন্তাটাই ভয় তৈরি করে।
তীব্র উদ্বেগের সময় মস্তিষ্ক অনেক বেশি সতর্ক হয়ে যেতে পারে। সাধারণ সময়ে কোনো চিন্তা মাথায় এলে আমরা সেটাকে আসতে ও চলে যেতে দিই। কিন্তু উদ্বেগের সময় একই চিন্তাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বা বিপজ্জনক মনে হতে পারে।
যেমন, হঠাৎ মনে হলো— “আমি যদি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাই?” এই চিন্তাটা আসার পর আপনি হয়তো নিজেকে পরীক্ষা করতে শুরু করলেন। “আমি ঠিক আছি তো?” “আমি কী করছি?” “আমার আচরণ কি স্বাভাবিক?” “আমি কি অদ্ভুত কিছু করতে যাচ্ছি?”
নিজের ওপর যত বেশি নজর দিতে থাকবেন, তত বেশি নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলো স্পষ্ট মনে হতে পারে। তারপর মনে হতে পারে, “দেখো, আমি তো সত্যিই স্বাভাবিক নেই!” এভাবেই ভয় আরও বাড়তে পারে।
এই অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে একটি বিষয় বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মনে কোনো ভয়ংকর চিন্তা আসা এবং সেই চিন্তা অনুযায়ী কাজ করে ফেলা—দুটো এক জিনিস নয়। মানুষের মাথায় প্রতিদিন অসংখ্য চিন্তা আসে। তার মধ্যে কিছু চিন্তা অদ্ভুত, অপ্রত্যাশিত বা ভয়ংকরও হতে পারে। বিশেষ করে যখন কেউ খুব উদ্বিগ্ন থাকে, তখন মস্তিষ্ক অনেক সময় এমন সম্ভাবনাও সামনে নিয়ে আসে যেগুলো সে আসলে চায় না।
তখন চিন্তাটা এত অস্বস্তিকর লাগে যে মনে হয়— “আমি এমনটা ভাবলাম কেন?” “আমি যদি সত্যিই এমন কিছু করে ফেলি?” এই ভয় থেকেই আবার সেই চিন্তাটাকে বারবার পরীক্ষা করা শুরু হতে পারে। কিন্তু কোনো চিন্তা মাথায় আসা নিজে থেকেই প্রমাণ করে না যে আপনি সেটা করতে চান বা সেটা ঘটবেই।
অনেকেই ভয় পেলে নিজের চিন্তা জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করেন। “এটা ভাবব না।” “এই চিন্তা মাথায় আনব না।” “শান্ত হতে হবে।” “আমাকে স্বাভাবিক হতে হবে।” কিন্তু একটি চিন্তাকে জোর করে দূরে সরাতে গেলে অনেক সময় সেটার দিকেই আরও বেশি মনোযোগ চলে যায়।
ধরুন আপনি নিজেকে বললেন, “এই চিন্তাটা একদম মাথায় আনব না।” তখন আপনার মস্তিষ্ককে বারবার পরীক্ষা করতে হবে—চিন্তাটা আবার এসেছে কি না। ফলে আপনি যেটা এড়িয়ে যেতে চাইছেন, সেটাই আরও বেশি চোখে পড়তে পারে। তারপর মনে হতে পারে, “আমি তো নিজের চিন্তাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না!” এই উপলব্ধি আবার নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়কে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
না। কোনো অনুভূতি খুব তীব্র হওয়া এবং সেই অনুভূতির কারণে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এক বিষয় নয়। ভয় খুব তীব্র হতে পারে। অস্থিরতা খুব বেশি হতে পারে। হৃদস্পন্দন খুব জোরে অনুভূত হতে পারে। মনে হতে পারে আর সহ্য হচ্ছে না। কিন্তু এই অনুভূতিগুলো তীব্র হওয়া মানেই আপনি নিজের আচরণ বা সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবেন—এমন নয়।
সমস্যাটা অনেক সময় এখানেই হয় যে, অনুভূতির তীব্রতাকে আমরা বিপদের প্রমাণ হিসেবে ধরে নিই। “এত ভয় লাগছে, নিশ্চয়ই কিছু একটা ভয়ংকর ঘটবে।” “এত অস্থির লাগছে, নিশ্চয়ই আমি নিজেকে সামলাতে পারব না।” কিন্তু অনুভূতি যত তীব্রই হোক, অনুভূতি আর বাস্তব ঘটনা এক জিনিস নয়।
নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় কখনো কখনো আরও একটি ভয় তৈরি করতে পারে—“আমি কি মানসিকভাবে ঠিক আছি?” কারো মনে হতে পারে, “আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?” বিশেষ করে যখন নিজের চিন্তাগুলো অস্বাভাবিক বা অপ্রত্যাশিত মনে হয়, তখন এই ভয়টা আরও শক্তিশালী হতে পারে। কিন্তু উদ্বেগের সময় অস্বাভাবিক বা অস্বস্তিকর চিন্তা হওয়া মানেই কেউ মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়। বরং চিন্তাগুলো নিয়ে অতিরিক্ত ভয়, সেগুলো পরীক্ষা করা এবং সেগুলোকে জোর করে দূরে সরানোর চেষ্টা অনেক সময় অভিজ্ঞতাটাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
যখন আপনার মনে হয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন, তখন নিজের প্রতিটি আচরণ লক্ষ্য করতে শুরু করতে পারেন। “আমি ঠিকমতো কথা বলছি তো?” “আমি অদ্ভুতভাবে আচরণ করছি না তো?” “আমার মাথায় কী চিন্তা আসছে?” “আমি কি নিজেকে সামলাতে পারছি?”
এই self-monitoring বা নিজের ওপর অতিরিক্ত নজর রাখা খুব ক্লান্তিকর হতে পারে। কারণ তখন আপনি শুধু পরিস্থিতির মধ্যে থাকছেন না—একই সঙ্গে নিজেকে একজন পর্যবেক্ষকের মতো দেখতে থাকছেন। ফলে স্বাভাবিক আচরণও অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।
নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় ধীরে ধীরে অনেক পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলতে পারে। একা থাকতে ভয় লাগতে পারে। ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি হতে পারে। দূরে কোথাও যেতে ভয় হতে পারে। কোনো জায়গা থেকে বের হতে না পারার চিন্তা আসতে পারে। এমনকি স্বাভাবিক কোনো কাজ করার সময়ও মনে হতে পারে—“যদি তখন আমি নিজেকে সামলাতে না পারি?” ফলে মানুষ ধীরে ধীরে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে শুরু করতে পারে যেখানে এই ভয়টা আগে হয়েছে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতি এড়িয়ে গেলে সাময়িকভাবে স্বস্তি পাওয়া গেলেও মস্তিষ্কের কাছে সেই পরিস্থিতিটা আরও ভয়ংকর বলে মনে হতে পারে।
অনেক সময় মানুষ ভাবে, “আগে আমাকে নিশ্চিত হতে হবে যে আমি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছি, তারপর আমি স্বাভাবিকভাবে কাজ করব।” কিন্তু বাস্তবে নিজের প্রতিটি চিন্তা, অনুভূতি বা শারীরিক অনুভূতিকে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আমরা সবসময় কী ভাবব সেটা বেছে নিতে পারি না। সবসময় কী অনুভব করব সেটাও ঠিক করতে পারি না। কিন্তু কোনো চিন্তা বা অনুভূতি আসার পর তার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক তৈরি করব, কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব—সেটা ধীরে ধীরে শেখা সম্ভব।
এই পার্থক্যটা বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লক্ষ্য সবসময় “কোনো ভয় থাকবে না” এমন হওয়া নয়। বরং ভয় বা অস্বস্তি থাকলেও সেটাকে বিপদের প্রমাণ হিসেবে না দেখে পরিস্থিতির মধ্যে থাকা শেখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
যদি এই ধরনের ভয় নিয়মিত হয়, দীর্ঘদিন ধরে থাকে, ঘুম, কাজ, পড়াশোনা, সম্পর্ক বা দৈনন্দিন জীবনকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সঙ্গে কথা বলা উপকারী হতে পারে। আর যদি কখনো নিজের বা অন্য কারো ক্ষতি করার বাস্তব ইচ্ছা, পরিকল্পনা বা তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হয়, তাহলে একা না থেকে দ্রুত কাছের বিশ্বস্ত মানুষ ও জরুরি পেশাদার সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ “নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলব” এই ভয় এবং বাস্তবে নিজেকে বা অন্যকে ক্ষতি করার ইচ্ছা—দুটোকে এক করে দেখা ঠিক নয়।
এই মুহূর্তে মনে হতে পারে আপনি নিজের চিন্তা বা অনুভূতির কাছে আটকে গেছেন। মনে হতে পারে, “আমি নিজেকে আর বিশ্বাস করতে পারছি না।” কিন্তু একটি ভয়ংকর চিন্তা আপনার ইচ্ছা নয়। একটি তীব্র অনুভূতি আপনার আচরণ নির্ধারণ করে না। আর অস্থিরতার একটি মুহূর্ত আপনার পুরো ব্যক্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আপনার মনে কী আসছে, সেটা এক জিনিস; আর সেই চিন্তার অর্থ আপনি কীভাবে বুঝছেন, সেটা আরেক জিনিস। “আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাব”—এই ভয়টি নিজেই অনেক সময় ভয়কে আরও বড় করে তুলতে পারে। তাই এই অভিজ্ঞতাকে শুধু ভয় হিসেবে না দেখে এর পুরো চক্রটা বোঝা দরকার—
চিন্তা → ভয় → শরীরের প্রতিক্রিয়া → অস্থিরতা → নিজের ওপর অতিরিক্ত নজর → আরও ভয়।
এই চক্রটা কীভাবে কাজ করে, কোন ধরনের চিন্তা এটাকে আরও শক্তিশালী করে এবং ধীরে ধীরে নিজের চিন্তা ও অনুভূতির সঙ্গে নিরাপদভাবে কীভাবে কাজ করা যায়—এসব নিয়ে বিস্তারিত পরের ধাপে আলোচনা করা হবে।
অনেকে এই ধরনের ভয় অনুভব করেন এবং সুস্থ হতে পারেন। আমাদের রিকভারি প্ল্যান অনেককে সাহায্য করেছে। প্রথমে আপনার অবস্থা যাচাই করুন—
১০০% গোপনীয় • বিশেষজ্ঞ-নির্ভর • আজই শুরু করুন