লোড হচ্ছে...
লোড হচ্ছে...
কোনো একটা বিষয় হয়তো আপনার মাথায় বারবার ঘুরছে। বিষয়টা ছোট হোক বা বড়—মনটা যেন কিছুতেই সেটাকে ছেড়ে অন্যদিকে যেতে পারছে না।
আপনি অন্য কোনো কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কারও সঙ্গে কথা বলছেন, ফোন দেখছেন কিংবা বিশ্রাম নিতে যাচ্ছেন—তবুও কিছুক্ষণ পর আবার সেই একই চিন্তাটা মাথায় ফিরে আসছে।
অনেক সময় আপনি নিজেকেই বলছেন, “এত চিন্তা করে কী হবে? এটা নিয়ে আর ভাবব না।” কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, যত বেশি চিন্তা না করার চেষ্টা করছেন, তত বেশি যেন সেই বিষয়টাই মনে পড়ছে। একটা চিন্তা থেকে আরেকটা চিন্তা তৈরি হচ্ছে, তারপর সেই চিন্তার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে শুরু করছেন।
হয়তো কোনো একটা ঘটনা নিয়ে ভাবছেন—“আমি কি ঠিক করেছি?”
কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছেন—“ভুল সিদ্ধান্ত হয়ে গেল না তো?”
ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন—“এরপর কী হবে?”
অথবা কোনো সমস্যা নিয়ে ভাবছেন—“যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়?”
একসময় দেখবেন, যে বিষয়টা নিয়ে প্রথমে চিন্তা শুরু হয়েছিল, সেটার সঙ্গে আরও অনেক সম্ভাবনা যোগ হয়ে গেছে। আপনার মাথার ভেতর যেন একই সঙ্গে অনেকগুলো প্রশ্ন চলছে, কিন্তু কোনো প্রশ্নেরই পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে অস্বস্তিকর বিষয় হতে পারে—আপনি জানেন যে অতিরিক্ত চিন্তা করাটা আপনাকে শান্ত করছে না, বরং আরও অস্থির করে তুলছে। তারপরও চিন্তাটা থামাতে পারছেন না।
কখনো কখনো এই চিন্তার সঙ্গে শরীরেও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। বুক ধড়ফড় করা, অস্থির লাগা, ঘুমাতে সমস্যা হওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা বা বারবার একই বিষয় যাচাই করার ইচ্ছা হতে পারে। তখন শরীরের এই অস্বস্তিও আবার নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে—“আমি এত অস্থির কেন?”, “আমার কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?”
এভাবেই একটা ছোট চিন্তা ধীরে ধীরে বড় হয়ে যেতে পারে।
আর একটা বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ—চিন্তা হওয়া মানেই সেই চিন্তা সত্যি, কিংবা সেটার ফলাফল অবশ্যই খারাপ হবে—এমন নয়। Anxiety-এর সময় মস্তিষ্ক অনেক সময় সম্ভাব্য খারাপ দিকগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে যে ঘটনাটার অনেকগুলো সম্ভাব্য ফলাফল থাকতে পারে, আপনার মন হয়তো বারবার শুধু সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনাটাই দেখতে শুরু করে।
আপনি হয়তো নিশ্চয়তা খুঁজছেন—“সব ঠিক থাকবে তো?”, “কিছু খারাপ হবে না তো?”, “আমি ভুল করছি না তো?” কিন্তু বারবার নিশ্চয়তা খুঁজতে থাকলেও কিছু সময় পর একই সন্দেহ আবার ফিরে আসতে পারে।
তাই প্রথমে নিজের কাছে এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার মাথায় যে চিন্তাটা আসছে, সেটার সঙ্গে আপনার বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য কোথায়। কোনটা বাস্তব সমস্যা, কোনটা সম্ভাবনা, আর কোনটা শুধুই anxiety থেকে তৈরি হওয়া ভয়—এই পার্থক্যটা বুঝতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার চিন্তাগুলোকে জোর করে বন্ধ করার চেষ্টা করার বদলে, সেগুলো কীভাবে তৈরি হচ্ছে এবং কোন পরিস্থিতিতে বেশি বাড়ছে—সেদিকে খেয়াল করা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।
কারণ অনেক সময় সমস্যাটা শুধু “আমি বেশি চিন্তা করছি” নয়। এর পেছনে থাকতে পারে অনিশ্চয়তা সহ্য করতে না পারা, ভুল হয়ে যাওয়ার ভয়, সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা, অথবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা।
আপনার ক্ষেত্রেও কি এমন হয়—একটা বিষয় মাথায় ঢোকার পর সেটা সহজে বের হতে চায় না? একই কথা বারবার মনে পড়ে? একটি “যদি” থেকে আরও দশটা “যদি” তৈরি হয়? আর শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না পেয়েও শুধু আরও বেশি অস্থির লাগে?
যদি এমনটা আপনার সঙ্গে নিয়মিত ঘটে, তাহলে শুধু চিন্তাটাকে থামানোর চেষ্টা না করে চিন্তার পুরো pattern-টা বোঝা দরকার।
পরের অংশে দেখুন, এই অতিরিক্ত চিন্তার সময় আপনার মস্তিষ্কে আসলে কী ঘটছে, কোন ধরনের চিন্তা আপনার anxiety আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং কীভাবে ধীরে ধীরে এই চিন্তার চক্র থেকে বের হয়ে আসার পথ তৈরি করা যায়।
অনেকে এই ধরনের ভয় অনুভব করেন এবং সুস্থ হতে পারেন। আমাদের রিকভারি প্ল্যান অনেককে সাহায্য করেছে। প্রথমে আপনার অবস্থা যাচাই করুন—
১০০% গোপনীয় • বিশেষজ্ঞ-নির্ভর • আজই শুরু করুন